

১৩ আগস্ট ২০২৬: প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ববি হাজ্জাজ, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সভায় গণসাক্ষরতা অভিযান-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব রাশেদা কে. চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু বিদ্যালয় ও শিক্ষকের একক দায়িত্ব নয়। একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত শক্ত করতে পরিবার, বিদ্যালয় ও কমিউনিটির সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের পড়াশোনা, উপস্থিতি, আচরণ, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বিকাশ নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি সহযোগিতামূলক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শুধু পাঠদানের স্থান হিসেবে নয়, বরং শিশু, অভিভাবক ও কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ ও ‘বন্ধু’ রেজিস্টার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণসাক্ষরতা অভিযান, সুরভি, ব্র্যাক, কারিতাস, রুম টু রিড, পিএফআইভিডিবি, আনন্দলোক ট্রাস্ট, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জিএসএস, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষায় কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক সহযোগিতা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারী এনজিও প্রতিনিধিরা সরকারের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।